সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

দৌলতখানে রূপালী ব্যাংক হিসাব থেকে গ্রাহকের টাকা ‘হাওয়া’, নানা প্রশ্ন

মো. মাকছুদুর রহমান, দৌলতখান (ভোলা):
  • সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

ভোলার দৌলতখানে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক–এর একটি শাখায় অদ্ভুত লেনদেনের ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহক। বেতনের টাকা তুলতে গিয়ে তিনি দেখেন, তার অ্যাকাউন্টে (ব্যাংক হিসাব) জমা থাকা অর্থ মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেছে। ওই গ্রাহকের দাবি—তিনি কখনও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপস বা এটিএম কার্ড ব্যবহারই করেননি। অভিযোগ করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান মেলেনি।

ভুক্তভোগী গোলাম মাওলা ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক। তিনি জানান, নিয়মিত চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা তুলে থাকেন। গত ২ মার্চ টাকা তুলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা অন্য একটি ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেছে।

তিনি জানান, ‘কখনও মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করেননি তিনি, এমনকি এটিএম কার্ডও নেই তার। বাসার কাছে ব্যাংকের শাখা থাকায় চেকের মাধ্যমে টাকা তোলেন। কিন্তু ২ মার্চ টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।’

ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তার ৫৫১২০১১***১১০ নম্বর হিসাবে জানুয়ারি মাসের বেতন বাবদ ২৬ হাজার ৭৬০ টাকা জমা হয়। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি পূবালী ব্যাংক–এর গোপালগঞ্জ শাখার অধীন একটি এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে বিএফটিএন (BFTN) পদ্ধতিতে প্রথমে ৫ হাজার টাকা এবং একই দিনে আরও ২১ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি তার অ্যাকাউন্ট থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এলাকার এক স্টেশনারি ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন নম্বরে ৫০ টাকা রিচার্জ করা হয়। ওই ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি প্রায়ই দোকানে গিয়ে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করেন। তবে কখন তার মোবাইলে এই টাকা ঢুকেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের দৌলতখান শাখার ব্যবস্থাপক নেছার উদ্দিন জানান, গোলাম মাওলা নামে তাদের শাখায় একটি টিচার্স সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গত ২ মার্চ তিনি টাকা তুলতে এসে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় বিষয়টি সামনে আসে। পরে স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রূপালী ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে বিএফটিএনের মাধ্যমে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহক আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ের আইটি বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে, গ্রাহকের অ্যাপস থেকেই লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের সময় তার মোবাইলে বার্তা পাঠানো হয়েছে। আমাদের শাখা থেকে এই টাকা উদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

শাখা সূত্রে জানা যায়, পূবালী ব্যাংকের গোপালগঞ্জ শাখার অধীন একটি এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এর মালিক ‘বৃষ্টি ঘোষ’। সেই বৃষ্টি ঘোষের অ্যাকাউন্টেই টাকা দফায় টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা কাজী মৃণাল মাহমুদ জানান, বৃষ্টি ঘোষের ১৯০২১০১১৬৭৭৪৪ নম্বর অ্যাকাউন্টে প্রায়ই বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা জমা হয় এবং তিনি সাধারণত এটিএমের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বৃষ্টি ঘোষ জানান, তার অ্যাকাউন্টে প্রায়ই টাকা আসে এবং কিছুক্ষণ পর আবার অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়।
তবে গোলাম মাওলার দাবি, জানুয়ারি মাসে বেতন জমার সময় তিনি মোবাইলে বার্তা পেলেও পরবর্তী তিন দফা লেনদেনের সময় কোনো এসএমএস পাননি।

রূপালী ব্যাংকের আইটি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় গ্রাহক অনলাইনে কোনো লিংকে ক্লিক করে বা অসতর্কতার কারণে মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দেন। তখন প্রতারকরা মোবাইলের তথ্য ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করে।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অ্যাপস নিরাপত্তা তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে গ্রাহকদেরও এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনায় গোলাম মাওলা ক্ষুব্ধ, তার প্রশ্ন—যে অ্যাপস তিনি কখনও ব্যবহারই করেননি, সেই অ্যাপস থেকেই কীভাবে তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তর হলো?

আরো
© All rights reserved ©
Developer Design Host BD