রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ছাড়াল ৫৩৮

বাংলাপোস্ট
  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

ইরানে টানা ১৫ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজার ৬ শতাধিক মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশিত হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ গত তিন দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরানের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ও নিহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে। রাজধানী তেহরানের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, মর্গে জায়গা না থাকায় নতুন মরদেহ গ্রহণ করাও সম্ভব হচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এখন পর্যন্ত ইরান সরকার নিহত বা আহতের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দিন যত এগোচ্ছে, ততই আরও বিস্তৃত ও সহিংস রূপ নিচ্ছে। দেশজুড়ে সরকারবিরোধী স্লোগান ও সংঘর্ষে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বিক্ষোভের মূল কারণ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে।

মুদ্রার এই অবনতি দেশজুড়ে তীব্র মূল্যস্ফীতির জন্ম দিয়েছে। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই ধীরে ধীরে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্রতা বাড়তে থাকে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এই বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি কয়েক দফা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি সরকার যদি কঠোর দমননীতি অবলম্বন করে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, জনগণের দাবি শোনার জন্য তার সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র: এএফপি

আরো
© All rights reserved ©
Developer Design Host BD