রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

১৫০ পাকিস্তানি কনেকে ভিসা দিল ভারত

বাংলাপোস্ট
  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

দেশ ভাগ হলেও জাতি ভাগ হয়নি, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়নি। বরং যুগ যুগ ধরে ভারত ও পাকিস্তানে থাকা অভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরো দৃঢ় করেছে।

দুই দেশে থাকা অভিন্ন জাতির মানুষরা নিজেদের মথ্যে বিয়েশাদি, সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ থেকে অন্তত ১০ লাখ সিন্ধি জনগোষ্ঠীর হিন্দু মানুষ ভারতে চলে আসে। তারা এখন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ও শহরে সরকারর বানানো কলোনি বা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বসবাস করছে। কিন্তু ফেলে আসা মাতৃভূমি সিন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনদের তারা ভুলে যাননি।

এত দিন তারা ঝামেলাহীন ভিসা সুবিধা নিয়ে ওয়াগা-আত্তারি সীমান্ত দিয়ে আসা-যাওয়া করত। দুই দেশের সিন্ধি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আকছার বিয়েশাদি হতো। পাকিস্তানের নারীরা বিয়ে করত ভারতীয় পুরুষদের। আবার ভারতীয় সিন্ধি নারীরাও বিয়ে করত পাকিস্তানি সিন্ধি পুরুষদের।

কিন্তু গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। গত বছর ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক মারা যান। জবাবে ভারত ৬ মে মধ্যরাতের পর পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সক্রিয় ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায়। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত এই অভিযানের পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর ভারত পাকিস্তানের সিন্ধি দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা ও সীমান্ত রুট বন্ধ করে দেয়।

তাতে দুই দেশে শত শত প্রতিশ্রুত বিয়ে আটকে যায়। বাগদানের পরও বিয়ে এবং সংসার শুরু করতে পারছিলেন কয়েক শ পাকিস্তানি সিন্ধি নারী।
দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর এই বিয়ে জট খুলেছে। বিশেষ ব্যবস্থায় পাকিস্তানের ১৫০ কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা দিয়েছে ভারত। তবে তাদের দেওয়া হয়েছে আকাশপথের ভিসা। ফলে আগের মতো ওয়াগা-আত্তারি সীমান্ত দিয়ে সহজে ভারতে এসে চট করে বিয়ের পিঁড়িতে বসে যাওয়া আর সম্ভব নয়।

পাকিস্তানি সিন্ধি অভিবাসীদের জন্য কাজ করা সামাজিক নেতা রাজেশ ঝাম্বিয়া বলেছেন, ‘অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো। ভারত পাকিস্তানে আটকে পড়া কনে এবং তাদের আত্মীয়দের ভিসা দিয়েছে। ফলে তারা অন্য দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছাতে পেরেছেন।’ ঝাম্বিয়া জানিয়েছেন, সিন্ধি সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই ধরনের বিয়ের জন্য পাঞ্জাবের ওয়াগা-আত্তারি সীমান্ত দিয়ে ভারতে আসতেন। তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সবকিছু বদলে যায়। কারণ আত্তারি রুট দিয়ে যারা দেশে আসার পরিকল্পনা করছিলেন, সরকার তাদের সবার ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছিল।’

ঝাম্বিয়া বলেন, ভিসা সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা ছত্তিশগড়ের রায়পুরভিত্তিক সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকিতে অবস্থিত একটি বিশিষ্ট হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয় ‘শাদানি দরবার’-এর আধ্যাত্মিক প্রধান। তিনি ইতোমধ্যেই ভারতের পুরুষদের সঙ্গে বাগদান হয়ে যাওয়া পাকিস্তানি নারীদের একটি তালিকা তৈরি করা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে অন্তত ১৫০ জন কনে ছিলেন; যাদের ভারতের নাগপুর, রায়পুর, যোধপুর, পুনে এবং অন্যান্য শহরে বিয়ে হওয়ার কথা পাকা হয়ে ছিল।’

মন্দির কর্তৃপক্ষ তালিকাটি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে এবং এই কনে ও তাদের পরিবারগুলো যাতে ভারতে আসতে পারেন, সে জন্য ভিসারব্যবস্থা করার অনুরোধ জানায়। ঝাম্বিয়া জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্ত পারের এই দর্শনার্থীদের শুধু বিমানে ভ্রমণ করার শর্তে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়। তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে পাকিস্তানের ১৫০ জন কনে এবং তাদের পরিবার বিয়ের জন্য দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশ হয়ে বিমান পথে ভারতে এসেছেন। এর মধ্যে নাগপুরের ১৫টি ঘটনা রয়েছে।’

ঝাম্বিয়া আরো জানিয়েছেন, পাকিস্তানে এখনো এই ধরণের আরো প্রায় ৩০০ নারী অপেক্ষায় রয়েছেন এবং তারা ভারতীয় সরকারের কাছে তাদের জন্যও।

আরো
© All rights reserved ©
Developer Design Host BD