রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভে ফুঁসছে যুক্তরাষ্ট্র, ৮০ লাখ লোকের জমায়েত

বাংলাপোস্ট
  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব গণবিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে পুরো আমেরিকা। ‘নো কিংস’ শিরোনামের এই আন্দোলনে দেশটিজুড়ে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তৃতীয় দফার দেশব্যাপী বড় আন্দোলন।

বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো বড় শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আমেরিকার পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে রোম, প্যারিস ও বার্লিনের মতো ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতেও এই আন্দোলন চলছে। তবে এবার আয়োজকদের মূল লক্ষ্য ছিল রক্ষণশীল ও গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষদের এই আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত করা।

এবারের তীব্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে এই মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে এক কুখ্যাত ও অত্যন্ত কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অভিযানে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল এবং নির্বিচারে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন এই অভিযানের সময় দুই নিরপরাধ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। শনিবারের (২৮ মার্চ) এই বিশাল সমাবেশে নিহত সেই দুই নাগরিককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় এবং তাদের স্মরণে বিশেষ শোক কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
এর আগে গত জুন ও অক্টোবর মাসেও দেশটিতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এবারের প্রায় ৮০ লাখ মানুষের এই রেকর্ড সমাবেশ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আমেরিকান প্রবাসী ও কিছু ফরাসি নাগরিককে নিয়ে গঠিত একটি জনতা প্যারিসের বাস্তিল চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ছবি: বিবিসি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিশাল গণজাগরণ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

মিনিয়াপোলিসের মূল সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রগতিশীল মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের। এছাড়া উপস্থিত জনতাকে উজ্জীবিত করতে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জোয়ান বায়েজ গান পরিবেশন করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী লিংকন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আশপাশে জড়ো হয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করছেন। আন্দোলনকারীদের একটাই দাবি—মানুষের মৌলিক অধিকার হরণকারী এই বর্ণবাদী ও অমানবিক অভিবাসন নীতির অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে হবে

আরো
© All rights reserved ©
Developer Design Host BD