গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ নতুন জীবন শুরু করেছিলন কাজী সাইফ আহম্মেদ সৌম্য (৩০) ও ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা অন্তী (২৭)। কতো আশা, কতো স্বপ্ন নিয়ে ঘর বাঁধেন তারা। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের কোনো সময়ই পেলেন না এই নবদম্পতি। সব স্বপ্ন ও আশা ভেঙে চুরমার হয়ে ডুবে যায় পদ্মানদীতে।
গতকাল বিকেল পাঁচটার পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী যে বাসটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়, সেই বাসেই ছিলেন এই নবদম্পতি। বাস ডুবির সঙ্গে নিভে যায় বহু তাজা প্রাণ, সেইসঙ্গে চিরতরে ডুবে যায় সৌম্য ও অন্তীর স্বপ্নও।
রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা’র মৃত ডা. আবদুল আলীমের কন্যা ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা অন্তী’র সঙ্গে এই এলাকার কাজী মুকুলের পুত্র কাজী সাইফ আহম্মেদ সৌম্যের বিয়ে হয় গত ২৭ ডিসেম্বর। বিয়ের তিন মাসও পার হয়নি।
বিয়ের পর এই দম্পতি থাকতেন ঢাকার উত্তরায়। ঈদের ছুটিতে এসেছিলেন গ্রামের বাড়িতে, ২৯ মার্চ পর্যন্ত তাদের ছুটিও রয়েছে। আজ ২৬ মার্চ সৌম্যের বন্ধুর বিয়েতে অংশ নিতে তারা গতকাল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন। বিয়ে শেষ করে আবারও তাদের গ্রামে ফিরে আসার কথা ছিল, তারা গ্রামে ফিরেছিলেন, কিন্তু জীবিত নয় লাশ হয়ে।
সৌম্য ও অন্তী’র স্বজনরা জানিয়েছেন, গতকাল রাত তিনটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি টেনে তোলার পর ভেসে ওঠে এই দম্পতির লাশ। ভোর চারটায় আনা হয় বাড়িতে। দুপুরে গোসল দেওয়ার পর জানাজা হয় রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠে। পরে স্থানীয় ভাবনিপুর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
প্রসঙ্গত, গতকাল বিকেলে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রীদের মধ্যে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার ও আজ দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পদ্মাপারে প্রিয়জনের লাশের অপেক্ষায় এখনও চলছে স্বজনদের আহাজারি।