বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়েছে: চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান

বাংলাপোস্ট
  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান শ্রমিক-কর্মচারী আন্দোলন নিয়ে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কিছু বিপথগামী কর্মচারী জনগণকে জিম্মি করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী। আমাদের আনুগত্য রাষ্ট্র, আইন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি থাকতে হবে। কেউ যদি সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে অন্য কারো প্রতি আনুগত্য দেখায়, তা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।”

তিনি দাবি করেন, বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং জনমনে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। “রমজানের আগে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত করে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরির অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু বন্দর সচল আছে। আমি নিজে প্রায় দুই ঘণ্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই কাজে যোগ দেবেন, কাউকে কাজে বাধা দেওয়া হবে না,” বলেন বন্দর চেয়ারম্যান।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি শুরু করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। পরবর্তীতে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমসহ বন্দরের প্রায় সব অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সফর করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে শ্রমিক নেতারা উপদেষ্টার আশ্বাসে আন্দোলন দুদিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন। ফলে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত ছিল।

এদিকে ওইদিনই আন্দোলনে জড়িত ১৫ জন শ্রমিক নেতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তাদের বিদেশ গমন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

দুদকে পাঠানো তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকনের নাম রয়েছে। আন্দোলনের মধ্যেই তাদের প্রেষণে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তালিকায় আরও রয়েছেন—মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।

এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর। সেখানে তিনি চার দফা দাবিতে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।

এর পর থেকেই রোববার সকাল থেকে জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো ও বহির্নোঙরসহ বন্দরের সব এলাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দরের বিভিন্ন গেটে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আরো
© All rights reserved ©
Developer Design Host BD