শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন

কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

বাংলাপোস্ট
  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জোবায়ের হোসেন (৩৫) নামে এক ইট-বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার (২২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে শুভাঢ্যা ইউনিয়নের গোলামবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জোবায়েরের বাবার নাম মৃত মীর হাবিবুর রহমান। গোলামবাজার মজিদপাড়ায় তাদের বাড়ি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোালামবাজারে নিজ ইট-বালুর গদিতে বসা ছিলেন জোবায়ের। দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোবহান ঢালীর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক ধারাল অস্ত্র নিয়ে গদিতে হামলা করে। এসময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে জোবায়ের। হামলাকারীরা পেছন পেছন দৌড়ে জোবায়েরকে কোপাতে থাকে।

একপর্যায়ে সে পার্শ্ববর্তী মরিয়মের চায়ের দোকানে ঢুকে প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানায়। হামলাকারীরা সেখান থেকে টেনে হিঁচড়ে দোকানের বাইরে এনে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে জোবায়েরের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে জোবায়েরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গোলামবাজার এলাকায় একটি জমি নিয়ে থানা শুভাঢ্যা ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা ফারুক ও জনৈক স্থানীয় সেন্টুর মধ্যে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই জমি সেন্টু দেখভাল করতে জোবায়েরকে দায়িত্ব দেয়। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি মোল্লা ফারুক। তার ইশারায় সোবহান ঢালীর নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে।

জানা যায়, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের মদদপুষ্ট হয়ে শুভাঢ্যার ত্রাস হয়ে উঠে যুবলীগ নেতা সোবহান ঢালী ও তাঁতী লীগ সভাপতি মোল্লা ফারুক।

ওই সময় জমি দখল, হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তারা। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর মোল্লা ফারুকের বিএনপিতে যোগ দিলে তার সঙ্গে যোগ দেন সোবাহান ঢালী। এ সময় মোল্লা ফারুকের অন্যতম ক্যাডার হয়ে উঠেন সোবহান ঢালী। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সোবাহান ঢালীর নামে রয়েছে একাধিক মামলা।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে নিহত জোবায়েরের স্বজনরা লাশ নিয়ে হাসপাতালে থাকায় এবং মোল্লা ফারুকের মোবাইল ফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।

আরো
© All rights reserved ©
Developer Design Host BD